দ্বিতীয় বিয়ে 

বলো মা কবুল?

শোভা চুপ করে আছে। এখনও ভাবছে কবুল বলবে কি না! এই কবুল বলার দৃশ্য টা তার জীবনে প্রথম নয়। দ্বিতীয় ঘটনা। প্রথমবার যার সাথে বিয়ে হয়েছিলো, তার সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কিন্তু তার ঔরসজাত একটি ছেলে আছে শোভার কাছে।

বয়স মাত্র দেড়বছর। বাবা মায়ের খুশির জন্য বিয়েটা করছে শোভা। কিন্তু সমস্যা হলো পাত্রপক্ষ শোভাকে গ্রহণ করবে, শোভার বাচ্চাকে গ্রহণ করবেনা। পাত্রের মা শক্ত টাইপের মানুষ। তিনি নাকি শোভার সাথেই বিয়ে দিতে চাইছিলেন না ছেলেকে। পাত্র ফরহাদ, শোভাকে ভীষণ পছন্দ করে, ভালোবাসে।

তাই আগের বিবাহ কোনও বাধা হয়ে দাড়ায়নি ফরহাদের কাছে।
 বিয়ে ঠিক হওয়ার আগে ফরহাদ শোভাকে বলেছিলো,


তুমি চাইলেই তোমার বাচ্চার কাছে যেতে পারবে। আমি কোনও বাধা দেবোনা।


শোভা প্রচন্ড খুশি হয়েছিলো। বিয়ের সমস্ত আয়োজন যখন হয়ে গেছে। বিয়েটা না করলে আব্বু কষ্ট পাবে খুব। তাই আর সাতপাঁচ না ভেবে শোভা কবুল বললো। 


↳ বিয়ে হয়ে গেলো শোভা আর ফরহাদের। বিদায়ের সময় শোভার বাচ্চাটিকে একবারের জন্য ও শোভার সামনে আনা হলোনা। শোভার মন ছটফট করছিলো বাচ্চার জন্য। না জানি ওকে ছাড়া কেমন কেমন করছে বাচ্চাটা। হয়তো কাঁদছে মা মা বলে। শোভাও কাদছে, বিদায়ের মুহুর্তে শোভা কিছুতেই যেতে চাইছিলো না! একদম কাদতে কাদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো।

কিছুক্ষণ পর যখন জ্ঞান ফিরে এলো তখন শোভা খেয়াল করলো সে চোখে কিছু দেখছে না অন্ধকার। তার চোখ বাধা। কেন চোখ বাধা? কিছুই বুঝতে পারছেনা সে। চোখ থেকে কাপড় টা খুলার চেষ্টা করতে গিয়ে খেয়াল করলো শোভা তার হাত বাধা। বুঝতে পারছে না কেমন পরিবারে বিয়ে করলো সে? তারা কি কসাই নাকি? তারা কি আর তার বাচ্চার কাছে যেতে দেবেনা কখনও? শোভা আৎকে উঠে বললো, 


웃 ফরহাদ! আমার চোখ হাত বাধা কেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছো তোমরা আমাকে?
유 হাত পা চোখ বেধে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি অনুমান করো?
웃 প্লিজ এমন হেয়ালি করোনা! তুমি কি আমাকে আর আমার সন্তানের কাছে যেতে দেবেনা?


유 নাহ! কখনই দেবোনা। হাত পা বেধে তোমাকে কুরবানি দেবো। সারাজীবন আমার বাসায় পঁচে মরবে তুমি।
웃 নাহ! এতটা নিষ্ঠুর হতে পারোনা তুমি! প্লিজ .. কি ক্ষতি করেছি তোমার? এমন করছো কেন?
유 কোন ক্ষতি করোনি বলেই শাস্তি দেবো।
ফরহাদের মুখে দুষ্টুমি মাখা হাসি। শোভা কাদছে। ফরহাদ এই কান্না থামাতে চায় না। কারন কান্নার পরেই হাসি আসে। শোভাও হাসবে।

কিছুক্ষণ পরেই কমিউনিটি সেন্টার থেকে ছেড়ে আসা বরের গাড়ি গন্তব্যে এসে পৌছুলো। শুধুমত্র বরের গাড়িই এসেছে। বাকী গাড়ীগুলো অন্য গন্তব্যে চলে গেছে। শোভাকে কোলে করে নামালো ফরহাদ। একেবারে কোনও বরন ছাড়াই বিছানায় নিয়ে গেলো। ফুলসজ্জার বিছানায়। তারপর কিছুক্ষণ চুপচাপ শুনশান চারপাশ।

একটু পরে শোভার হাত ও চোখের বাধন খুলে দিলো ফরহাদের ছোটবোন। শোভা চোখ খুললো, ফরহাদের হাতে শোভার সন্তান। শোভা সন্তানকে দেখে খুশিতে উৎফুল্ল হলো। শোভা খেয়াল করলো এটা ওর নিজের ঘর। নিজ হাতে সাজিয়েছিলো। শোভা ফরহাদকে বললো,
웃 এটা কি আমার বাবার বাড়ি? নাকি তোমাদের বাড়ি?


유 তোমাদের বাড়ি। আমি আর আমার ছোটবোন সুস্মিতা প্ল্যান করেছিলাম আগে থেকেই। তোমাকে সারপ্রাইজ দেবো। তোমার যতদিন ইচ্ছে এখানে থাকো। আমার কোনও সমস্যা নেই। আর তোমার বাচ্চা এখন শুধু তোমার নয়, আমাদের সন্তান। কি দিবে ওর একটু ভাগ? 


শোভা ঈশারায় সায় দিলো। তারপর সন্তানকে জড়িয়ে ধরে ফরহাদকে বললো,
웃 ধন্যবাদ আমাকে বুঝার জন্য।
.
সত্যিই! নারীরা আর কিছু চায়না, যদি প্রিয়মানুষ তাকে বুঝতে পারে, তার মূল্য দিতে পারে। তবেই সে খুশি হয়।
.

 গল্পটি যিনি লিখেছেনঃ আবিদ

সংসার

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here