ট্রু এন্ড লাকি লাভার

ট্রেনে উঠেই সিট খুঁজতে লাগলাম ‘চ’ বগিতে সতের আর আঠারো নাম্বার সিট দুটোর টিকিট পেয়েছি। বিয়ে করেছি চারমাস হলো কখনওই ভালোবাসতে পারেনি বউকে। সবসময় রাগ দেখিয়ে চলতাম যে কারণে ও আমার সাথে কথা বলতেও ভয় পেতো!

তবুও বাবা-মায়ের জোরাজোরিতে শহর থেকে ওকে নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলাম শীতকালীন ছুটিতে। সীটে এসে বসামাত্র সামনের উনিশ আর বিশ নাম্বার সীটের দিকে চোখ আটকে গেলো! মেয়েটি তার স্বামীর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে গভীর ঘুমে আর ছেলেটিও স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশে তার স্ত্রীর চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আমি অপলক তাকিয়ে আছি তাদের দিকে।

আমি অরুর দিকে তাকালাম ওর চোখে অশ্রু টলমল করছে। হয়তো আমার কাঁধে মাথা রাখতে চাইছে নয়তো জিজ্ঞাস করতে চাইছে এমনভাবে ওদের দিকে তাকিয়ে আছো কেন! আমার স্ত্রীর নাম অরু। তবে আজ অব্দি স্ত্রীর কোনো অধিকার ওকে দেইনি! আমার সামনে বসা মেয়েটি হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো আরে হাসিব তুই!

-হুম। কেমন আছিস?
-ভালো। তুই?
-ভালো।
-সেতো দেখতেই পারছি। তো কোথায় যাচ্ছিস!
-বাড়ি যাচ্ছিলাম। তুই?
-আমিও বাড়ি যাচ্ছিলাম।
-তোমরা দুজন দুজনকে চিনো?

মীরার বর ওকে জিজ্ঞাস করলো, আর অরু আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে কতগুলা প্রশ্নসূচক কথা নিয়ে!

-হুম চিনি। ও আমার ছোট বেলার বন্ধু।
-তাই নাকি!
-হুম।
-হাই। আমি নিলয়।
-আমি হাসিব।

-জানেন আমার স্ত্রী, মানে আপনার বন্ধু অনেক অভিমানী! বিয়ের পর তিন মাসের বেশি সময় লেগেছে ওর মন ছুঁতে!
-হুম। অনেক রাগী আর বদমেজাজিও বটে। যেভাবেই হোক ছুঁতে তো পেরেছেন!
-হুম। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, অনেকবার ভালোবাসি বুঝানোর পর তিন মাস লাগছে মন পেতে! তাও আবার নিজের বিয়ে করা বউয়ের!

-হুম ও অনেকটাই অভিমানী। ছোটবেলায় আমি একদিন ওর পুতুলের চোখ নষ্ট করে ফেলছিলাম বলে ঠিক সেরকমই নতুন একটু পুতুল কিনে দিতে হয়েছিল!
-হুম। ওর মন পেতে আমার কতগুলা গোলাপ আনতে হয়েছে! বেলি ফুলের মালাও গেঁথেছিলাম নিজ হাতে। শেষ অব্দি একদিন আমার মোবাইল স্ক্রিনে থাকা একটা মেয়ের পিকচার দেখে আমার কলার ধরে বলেছিল
-এই মেয়েটা কে! সত্যি ভালোবাসিস তো! আমি সেদিন হেসে বলছিলাম

-তুমিতো আমায় ভালোই বাসোনা তাই ভাবছি নতুন একটা মেয়ে দেখি, নতুন বউয়ের ভালোবাসা পাই কিনা!
-ভালোবাসি বলেই এতোদিন এখানে আছি। কিন্তু তুমিতো অন্য কাউকে নিয়ে ভাবছো আমায় রেখে!
-আরে বোকা মেয়ে কাঁদছো কেন! এই পিকটা ফেসবুক থেকে নামানো একটা অচেনা বালিকার পিকচার। তোমার কেমন হিংসে হয় সেটাই দেখতে চাইছিলাম!
-হনুমান! আমিও ভালোবাসি।


তারপর থেকে মেয়েটা আমার অনেক কেয়ার করে। রাগীর সাথে কেয়ারিংও বটে। দুইবারের বেশি আমার ফোন বাজলে অপরপাশে যেন তার অক্সিজেনের সল্পতা ধরে! অফিস থেকে এসেই তার কপালে আদুরে পরশ আঁকতে হয়। জড়িয়ে ধরে বলতে হয় আমার কিচ্ছু হয়নি পাগলী। তবুও অনেক কান্না করে আর বলে হয়নি তো কি হয়েছে!

যদি কিছু হতো! ফোন না ধরলে আমার কেমন কেমন লাগে! আমার অনেক চিন্তা হয় আবার কিছু হলোনা তো! এভাবেই ও এখন আমার কেয়ারিং বউ। আমিও দুষ্টুমিতে ভরপুর মিষ্টি দেখতে বউটাকে অনেক ভালোবাসি। ওকে বিয়ে করেছি দুবছর হতে চলছে আজ আমার ভালোবার মহাকাব্য ওর হাতে। পৃথিবীর আলো দেখতে চলেছে এক অপার সঞ্জীবনী নিয়ে আমার ভালোবাসার বাবুটা! সেই জন্যই তো বাড়ি যাচ্ছি যাতে ফ্যামিলির কাছে থেকে ওর প্রতি কেয়ারিংটা আরও বাড়ে!

-হুম। আপনাদের গল্পটা অসাধারণ! আপনি তো লাকি লাভার! আপনাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকুক জন্মজন্মান্তর। ভালো থাকেন আপনারা। দোয়া রইলো।
-হুম।

তারপর পিছনের দিকে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছি। আমি জানি মীরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে অপলক আর অরু তাকিয়ে আছে মীরার দিকে কতগুলো বিষ্ময়সূচক প্রশ্ন নিয়ে! আমি বন্ধ চোখের কল্পনায় একাকী ডুবে গেলাম অতীতে। হয়তো সুখের নয়। তবুও ছিল ভালোলাগার আর অপ্রাপ্তির এক গল্প!
.

পাশাপাশি বাসার সুবাদে সারাক্ষণ যে মেয়েটির সাথে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো সে মেয়েটিই মীরা। যে কোনো কিছু নিয়েই ঝগড়া হতো। খেলাধুলায় তো আরও বেশি। মারামারি পর্যন্ত হয়ে যেতো! ও আমার জুতো ফেলে দিতো পুকুরে আর আমি ওর খেলনা জিনিস! প্রাইমারী লেভেলে এমনই চলছিল প্রতিদিন। ক্লাসে বসেও বলতাম। চুন্নি আমার জুতা চুরি করে!

ক্লাসেও যতক্ষণ স্যার না আসে একজন আরেকজনের সাথে তুমুল ঝগড়া চলতো! মাঝেমধ্যে এমনও হয়েছে স্যার আমাকে ফাস্ট বেঞ্চিতে বসাতেন আর ওকে লাস্ট বেঞ্চিতে আর ওকে ফাস্ট বেঞ্চিতে হলে আমাকে লাস্ট বেঞ্চিতে। তবুও ক্লাসে এই কর্নার থেকে ওই কর্নারে অব্দি চিল্লাচিল্লি করে ঝগড়া হতো। এভাবেই গেলো প্রাথমিক ধাপ। তারপর নিম্ন মাধ্যমিকে উঠে ঝগড়াটে ভাবটা অনেক কমে যায়। তখন আমি ওর নামে বোর্ডে এইটা ওইটা লিখি আর ও আমার নামে।

এগুলা নিয়েও মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো। তখন আমার অনেকগুলো বন্ধু হয়েছিল সবাই মিলে এইটা ওইটা বলতাম। ওর বান্ধবীও হয়েছিল অনেক সবগুলোরে একসাথে এইটা ওইটা বলতাম। এমনটাও বলতাম ওই ক্লাসে আইসা কি করছ শুধু শুধু বাপের পয়সা নষ্ট করিস, সেই তো পরের বাড়ির পাতিল মাঝতে হইবো। যা আগেভাগে বাসায় বসে অনুশীলন কর। ক্লাস সেভেনে একদিন লিখে বোর্ডে লিখে দিয়েছিলাম।

আমি এমন একটা চুন্নিবিল্লির গল্প জানি যে শুধু ছেলেদের জুতো চুরি করতো! ছিঃ! আর ভালো কিছু পেলোনা। সেদিনের পর আমার সাথে রাগ করে একমাস কথা বলেনি। তখন আমার এতোটাও খারাপ লাগতোনা। তখন আবেগ জন্মায়নি বলেই খেলাধুলায় সময় কেটে যেতো!

ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের আবেগ নাকি তাড়াতাড়ি জন্মায়! হয়তো! অষ্টম শ্রেণীতে উঠবার পর ওর দুষ্টমি আচরণগুলো পাল্টে গেলো! এখন আমি হোমওয়ার্ক না আনলে ও নিজে করে দেয়। আর করে দেওয়ার সময় না পেলে নিজেরটা লুকিয়ে বলে সেও করেনি!

হোমওয়ার্ক আলসেমির কারণে করি আর না করি ক্লাসে সবসময় পড়া দিতে পারতাম। এভাবে গেলো আরও একটি বছর। নবমে এডমিশন নিতে গিয়ে আমি যখন বাণিজ্য শাখা নিলাম তখন ও নিজে বিজ্ঞান বিভাগ পাল্টে বানিজ্য বিভাগে এডমিশন নিলো।

নবম শ্রেণীতে প্রায় দুমাস যাওয়ার পর টিফিন টাইমে বোর্ডে একটা লেখা দেখে আমি অবাক হয়ে তাকিয়েই থাকি! লেখাটা ছিল এরকম, সবাই একটা গল্প শুনো, “এক ছিল রাগপরি আর ছিল এক বদমেজাজি রাগকুমার। রাগপরি চাইতো রাগকুমার যেন তার জন্য কেয়ারিং হয় কিন্তু রাগকুমারটা সবার সামনে অপমান করতো রাগপরিকে”!

জানি এটা মীরাই লিখছে কিন্তু কথাগুলো সেদিন এতো গভীরভাবে বোধগম্য হয়নি! সেদিন শখ করে একটা ময়না পাখি নিয়ে গিয়েছিলাম বাড়িতে। ময়নার সাথে অনেক কথা বলতাম। আর ময়না ঘাড় কাত করে মন দিয়ে শুনবার চেষ্টা করতো কিন্তু কঠিন শব্দ হওয়ায় না বুঝে চেঁচামিচি লাগিয়ে দিতো! দশম শ্রেনীতে অধ্যয়ন কালে আমি বুঝতে লাগলাম মীরার কাছে যতক্ষণ থাকি ততক্ষণ অন্যরকম ভালোলাগে!

ওর থেকে একটু আড়াল হলেই মনে হয় যেন কতকিছু হারিয়ে গেছে! একেই কি ভালোবাসা বলে! তবে আমিওতো ভালোবাসি। কিন্তু বলবো কি করে! ওকেতো ছোটবেলা থেকেই বন্ধুর মতো দেখে এসেছি। বেষ্ট ফ্রেন্ডের মতো চলেছি। ও যদি বলে আমরা শুধুই বন্ধু। তাই বলিনি কারণ বন্ধু হয়েও অনন্ত ওর সাথে কথা বলতে পারবো হোকনা ঝগড়াঝাঁটি আর তর্কবিতর্ক! নিজে কখনওই ওকে বলতে পারবোনা।

তবুও ময়না পাখিটাকে ভালোবাসি শিখাচ্ছি। ময়নাটা যেদিন ভালোবাসি বলতে পারবে সেদিন পাখিটা মীরাকে দিয়ে দিবো।যখন মীরার সাথে কথা হয়না তখন আমি ময়নার সাথে একাই বকবক করতাম। আর বলতাম ভালোবাসি, ভালোবাসি। ভালোবাসি বলার সময় ময়না ঘাড় কাত করে শুনে থাকতো কিন্তু বলতে পারতোনা। হয়তো আমিও মীরাকে বলতে পারবোনা কখনওই।

তারপর উচ্চ মাধ্যমিকও গেলো এভাবেই বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে! হাসি-খুশি আর ঝগড়া-খুনশুটির ছড়াছড়ি ছিলো বেশ! তারপর এডমিশন নিলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ও একই প্রতিষ্ঠানে এডমিশন করে নিলো! কখনওই আড়াল হতে দিতোনা আমায়! কোনো মেয়ের সাথে হেসে কথা বললেও বলতো আমি পুরানো হয়ে গেছি বলে নতুন বন্ধু খুঁজছিস নাকি! আমি শুধু বলতাম ধুর তোর মতো আর কেউ হয় নাকি!
.
এভাবেই গেলো আরও দুটি বছর। মান-অভিমানে সম্পর্ক চললেও তখনও সম্পর্ক ছিলো বন্ধুত্বের! কাউকে হারানোর ভয়ে যদি ভালোবাসি বলা হয়না যে সম্পর্কগুলোয় সেটাই সত্যিকারের ভালোবাসা হয়ে থাকে! যেমনটা আমিও বলতে পারিনি। ময়নাটাও বলতে শিখেনি। তখন অনার্স তৃতীয় বর্ষে! হঠাৎ মীরা একদিন ফোন করে বললো হাসিব তুই কোথায়?

-এইতো আমি পাড়ার ঈদগাহ মাঠের দেওয়ালের উপর বসে আছি।
-আচ্ছা তুই ওখানেই বসে থাক আমি আসতেছি।
-আচ্ছা।

মনেমনে ভাবলাম হয়তো নিজেই আমায় প্রপোজ করবে! আমিও প্রতিদিনকার মতো ময়নার খাঁচাটা নিয়ে ময়নাকে কথা ভালোবাসি শেখাচ্ছিলাম! আজ এতোবছর হয়ে গেলো কিন্তু একবারও কথাটা বলতে পারলোনা! পাঁচ বছরে একটা কথা বলতে পারেনি! আমিও তো পারিনি এতোগুলা বছরে যাকে ভালোবাসি তাকে বলতে! ময়নার সাথে কথা বলছিলাম এর মাঝেই মীরা আসলো!

-তোকে একটা কথা বলার ছিলো হাসিব!
-কি কথা!
-আগামী সপ্তাহের বুধবার আমার বিয়ে। এই নে কার্ড। ছেলে সরকারি ফরেস্ট অফিসার! তুই আসিস বিয়েতে।
-হুম চেষ্টা করবো।
-আর কিছু বলবি?

-আমার আর কি বলার। সুখী হ’!
-কতটা সুখি হবো জানিনা তবে জানি এতোটা ভালো থাকতে পারবোনা। তোকে অনেক মিস করবো।
-মিস করার কি আছে। বরং আরও কেয়ারিং কাউকে পেতে পারিস!
-জানিনা।

ওর চোখে অশ্রু ছলছল করছে। হয়তো আমার দিকে করুণ চাহনি জানতে চায় কিছু বলবো কিনা, নয়তো কিছু বলতে চেয়েও থমকে যায়! কিন্তু আমার যে কিছু বলার নেই! কিছু ক্ষেত্রে মায়া কাটাতে শিখতে হয়। কিছুক্ষেত্রে পিছুটান রাখলে জ্বালা বাড়ে! তবুও এতোগুলো চাপা কষ্ট নিয়ে বললাম ভালো থাকিস। আর তোর বিয়ের অগ্রিম উপহার সরূপ ময়নাটা রাখ।

-তুই এই ময়না পাখিটাকে ভালোবাসিস না?
-হুম বাসিতো।
-ভালোবাসাকে এভাবে পিঞ্জিরাবদ্ধ করে রাখতে নেই। লোহার পিঞ্জিরার দরজা খুলে দে। মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াক তবেই তো তোর ভালোবাসা সার্থক হবে!
-আসলেই আমিও তো মন পিঞ্জিরায় ভালোবাসাকে আটকে করে রাখতে পারলাম না। আজ সব ভালোবাসাগুলো খাঁচা মুক্ত হয়ে উড়ে যাক মুক্ত আকাশে! ভালোথাকুক আজ ভালোবাসাগুলো। সব মায়ার শিকল খুলে দিলাম।
-কি বললি?
-কিছুনা।
তারপর খাঁচার দরজা খুলে দিলাম। এতোবছরে ভালোবাসি বলতে না পারা পাখিটা আজ মুক্তির আনন্দে একটা কাঁঠাল গাছের ডালে গিয়ে বসে তার যতোটা জোর আছে তা দিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি, মীরা, মীরা, ভালোবাসি মীরা, ভালোবাসি, মীরা মীরা!

মীরার কথা আর ওকে এতোবার বলছি যে আজ ভালোবাসি বলার সাথে মীরাও বলছে! তারপর ময়নাটা ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে গেলো মুক্ত আকাশে। আজ সকল ভালোবাসাগুলো পিঞ্জিরা মুক্ত। পাখিটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম যতক্ষণ অব্ধি দেখা গিয়েছিল! এই মনের ঘরে যে প্রেম দেখেনা যাকনা, সে যাকনা!

মীরাও পাখিটার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে ছলছল চোখে মৃদু কন্ঠে বলল বিয়েতে আসিস কিন্তু। ভালো থাকিস। এমন কাউকে খুঁজে নিস যে অনেক কেয়ার করবে তোকে। তাকে বলিস আমার কথা। বলবি তোর অনেক কেয়ারিং,রাগী,দুষ্টু একটা বেষ্টি ছিলো। যে সবসময় তোর পাশে থাকবে বলেও পাশে নেই। স্বার্থপরের মতো চলে গেছে! কিন্তু আমি স্বার্থপর নই রে! বাবার কথার উপর দ্বিমত করার সাহস হয়ে উঠেনি আমার। ভালো থাকিস হাসিব। বাই। আর বিয়েতে অবশ্যই আসিস।

তারপর মীরাও চলে গেলো চোখ মুছতে মুছতে চেয়ে রইলাম তার চলে যাওয়ার দিকে। ভালোবাসাগুলো আজ বন্দি শিকল খুলে চলে গেলো! ভালো থাকুক তারা!
ভেজা চোখগুলো নিয়ে আমিও ফিরে এলাম। চট্টগ্রাম চলে যাবো মামার বাড়ি কয়েকদিন সেখান থেকে ঘুরে আসবো সে অব্ধি মীরার বিয়ে হয়ে যাক। এখানে থাকলে আরও কষ্ট পাবো! তারপর ওর সাথে আর দেখা হয়নি আজ প্রায় দু বছরের বেশি সময় পর হঠাৎ দেখা!

তারপর নিলয় নামের ছেলেটার কথা শুনে চোখ মেলে তাকালাম।
-আপনার বিবাহিত জীবন সম্পর্কে বললেন না!
-বিবাহিত জীবন এখনও গুছিয়ে নিতে পারিনি। বিয়ে করেছি সবে দেড় মাস হবে।এখনও বউকে ভালোবাসতে পারিনি তেমন। এইতো এটা আমার স্ত্রী অরু! কয়েকদিন ধরে মা বলছিলেন বাড়ি যেতে। তাই বাড়িতে যাচ্ছিলাম আজ।
-ও আচ্ছা।
তারপর অরু আমার দিকে তাকিয়ে রইলো প্রথমবার স্ত্রী পরিচয়ে কারোর সাথে পরিচিত করালাম দেখে। ওর চোখের কোণে কিঞ্চিত অশ্রুও দেখা যাচ্ছে। প্রাপ্তির অশ্রু! তারপর আমি ফের মাথা এলিয়ে দিলাম পিছনের দিকে।

অরু আমার দিকে একটু চেয়ে থেকে সব সংকোচ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আস্তে করে আমার কাঁধে মাথা রাখলো। আমিও ওর পিঠের উপর দিয়ে ডান হাত ওর ডান হাতের কাঁধের উপর রাখলাম। অরুও দুহাত দিয়ে আমার বাম হাত শক্ত করে ধরে আছে। আমি চোখ লাগিয়ে নিলাম। জানি মীরা আমার আর অরুর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে। দেখুক গে! আমার কি! সে ভালো থাকতে পারলে আমি কেন পারবোনা!

তাদের মতো আমরাও খুব ভালোই থাকবো। দুটি ভালোবাসার গল্প এখানেই শেষ নয়! ভালোবাসার খুনসুটি চলতেই থাকবে সম্পর্কগুলোতে! একমুঠো সুখ কুঁড়োতে অনেক মান অভিমান,রাগ-অনুরাগ হবে কিন্তু কেউ কাউকে ছেড়ে যাবেনা।

ভালোথাকুক নিলয়-মীরারা। হাসু আর অরুরাও ভালোই থাকবে। আমি ছিলাম মীরার ট্রু লাভার কিন্তু এখন লাকি লাভার কারণ আমি পেয়েছি অরুকে, যে আমায় অনেক বেশিই ভালোবাসে! আমিও বাসি, খুব ভালোবাসি।

লেখকঃ Nishan Hasib Shanto

Read More Stories…

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here