উপহার 

0
9

‘হ্যালো রিপা!’
.
‘হ্যাঁ বলো?’
.
‘ছোট একটা ভুল হয়ে গেছে।ফাইলটা বাসায় ফেলে এসেছি!ওটা একটু ড্রাইভারকে দিয়ে পাঠিয়ে দাও।’
.
‘আজকাল দেখছি খুব অন্যমনস্ক হয়ে গেছ। কিচ্ছুটি তোমার মনের আঙ্গিনায় থাকছে না। এভাবে চলতে থাকলে তো ভবিষ্যৎ তোমাকে উল্টো বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করবে।’
.
‘আরে বাপ রে বাপ! তুমি তো দেখছি একেবারে দার্শনিক হয়ে গেছ? আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তোমাকে এতো উদ্বিগ্ন হতে হবে না।আমি নিজেই সামলে নেব।এই মুহূর্তে প্রচুর চাপের মুখে আছি তুমি এক্ষুনি ফাইলটা পাঠিয়ে দাও।’
.
‘আচ্ছা সে নয় দিলাম, কিন্তু ফাইলটা কোথায় আছে?’
.
‘বেড রুমের আলমারির লকারে’
.
‘আচ্ছা আমি দেখছি,রাখো তুমি।’

রিপা বেড রুমে চলে এলো। আলমারির খুলে লকার গুলো চাবি দিয়ে একটা একটা করে খুলছে কিন্তু ফাইলটা কোথায়?।মোটা মোটা হিসেবের খাতা,দুচারটে কলম, পুরোনো বেল্টের ঘড়ি,নেইলকাটার, টুথপিকের কৌটা,বিলের রশীদ এটা সেটা আরো কতো কি?এখানে কেউ জরুরি ফাইল লুকিয়ে রাখে?তা রেখেছে রেখেছে যাবার সময় নিয়ে গেলেই পারত না?


.
এরপর রিপা অন্ধকার লকারটার ভেতরে হাত হাতড়াতে গিয়ে কি যেন একটা হাতে পেল।সেটাকে বাইরে বেড় করে দেখল একটা কাগজের বাক্স। বাক্সের উপরে রঙ্গিন কাগজের ছোট্ট টুকরোটায় ফারহানের হাতের লেখাটা জ্বলজ্বল করছে,

‘প্রিয় তুমি, মিথ্যে বলার জন্য দুঃখিত। আমার তরফ থেকে তোমার জন্য সামান্য উপহার ‘
রিপা উৎকণ্ঠার সাথে বাক্সটা খুলল। অবাক হয়ে গেল। নীল রঙের শাড়ি ও এক পাতা লালা টিপের পাতা। মুখে উপর আনন্দের ভিড় থাকা সত্ত্বেও অজান্তেই চোখের কোনে জল জমেছে।
সত্যিই বদ্ধ পাগল একটা।মোবাইলটা আবার বেজে উঠল,

‘পছন্দ হয়েছে?’
.
‘খুব ..খুব..খুব!আগে বললেই পারতে?অভিনয়টা শিখে গেছ দেখছি?’
.
‘ মাঝেমধ্যে কিছু অভিনয় আনন্দ যোগাযোগ।আজ সন্ধ্যায় বাইরে বেরুব তৈরি থেকো ‘
.
কথা শেষ করে ফারহান লাঞ্চের জন্য প্লাস্টিক কন্টেইনারটা ব্যাগ থেকে বের করলো। স্বচ্ছ কন্টেইনারের বাহির থেকে দেখা যাচ্ছে অভিশপ্ত চালের রুটি গুলো।রোজ রোজ এই এক‌‌ই জিনিস খেতে খেতে জিহ্বায় মরিচা পড়ে গেছে। বিধাতার দেয়া উপহার গুলো এড়াতে কত আয়োজন।এই যে মেদ কমাতে তিন বেলা নিয়ম করে রুটি আর পটলের তরকারি অনিচ্ছা সত্ত্বেও গিলতে হচ্ছে।রিপাও দুঃখটা বুঝল না,এসব খায়িয়ে কি লাভ?
জোর পূর্বক মুখে পুরলেও পেট’তা চাইছে না।এই চাওয়া না চ‌ওয়ার কড়ি ডোরে ক্ষুধা অনবরত কলিং বেল বাজিয়ে যাচ্ছে।
.
ফারহান প্লাস্টিক কন্টেইনার টা খুললো। গোলগোল রুটি গুলো বড়ই অদ্ভুত, যেন নির্বিকার চোখ দুটোতে জল ছলছলে। ওদের খাওয়া খুব কষ্টকর।নাছোড় মনটাকে বাগে এনে একটা রুটি হাতে তুলে নিল ফারহান।আর অমনি চোখে পড়লো রিপার হাতের লেখায় একটুকরো চিরকুট,

“আমি জানি এই রুটি আর পটলের তরকারি তোমার দু চোখের বিষ। কিন্তু কি করার আছে তোমার ওই বক্সিং ব্যাগের ভুঁড়ির চেয়ে শতগুণে ভালো। মনে দুঃখ নিয়ো না প্লিজ! তবে হ্যাঁ, আজ তোমার জন্য একটু ভিন্নতা রয়েছে। পটলের তরকারির বদলে দেশীয় মুরগির ট্যালট্যেলে ঝোলের।এটা আমার তরফ থেকে তোমার জন্য ক্ষুদ্র উপহার। দ্রুত বাড়িতে এসো।
হ্যাপি ডায়েটিং”

ফারহানের চোখে যেন লেখাটা লটকে আছে।ব্যাগ হাতড়ে ছোট আরেকটি কন্টেইনার বের করেছে।ওটাই সেই মহা মূল্যবান খাবার। দ্রুততার সাথে কন্টেইনার টা খুলে মুখে পুরো দিলো অমৃত সুধা।

© Tariqul Islam Shaon

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here